বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব10-বিচার শুরু


Mehedy Hasan২০/১১/২০১১
আজ  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ বিচার  শুরু হলো ট্রাইব্যুনালে।

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের দায়ের করা দুটি আবেদনের শুনানীর মাধ্যমে আজ সকালে আদালতের  কার্যক্রম  শুরু হয়। প্রথম আবেদনটি ছিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম কোন বিবেচনায় পুনরায় আদালতে বসেছেন তার ব্যাখ্যা দাবি সংক্রান্ত। দ্বিতীয়টি ছিল মামলার কাগজপত্র  এবং স্বাক্ষীদের প্রস্তুতির জন্য তিন মাস সময় চেয়ে বিচার শুরু করার বিষয়ে।

প্রথম আবেদন  শুনানী শেষে  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক আগামী ২৩ নভেম্বর তার (বিচারপতি নিজামুল হক) আদালতে বসা বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের দিন ধার্য করেন।  দ্বিতীয় আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৭ ডিসেম্বর তিনি অভিযুক্ত পক্ষের স্বাক্ষীদের তালিকা আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালত আগামী ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রণের দিন ধার্য করেছেন।
এরপর তিনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নির্দেশ দেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপনের।  চিফ প্রসিকিউটর বেলা ২ টায় সূচনা বক্তব্য শুরু করেন।

ট্রাইব্যুনালের চেয়রম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটরদের সূচনা বক্তব্য রাখার নির্দেশ দেয়ায় তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান মাওলানা সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানে বিরুদ্ধে উত্থাপিত আবেদনের শুনানী নিষ্পত্তি না করে বিচার শুরু করা উচিত নয়। এটা বেমানান। তিনি বলেন, সূচনা বক্তব্য রাখা মানে বিচার শুরু হয়ে যাওয়া। আগামী বুধবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আবেদনের নিষ্পত্তির যে তারিখ ধার্য করা হয়েছে তার পরে এ বিচার শুরু করার জন্য প্রার্থনা করেন।

১৪ এপ্রিলের আদেশের পর বিচারপতি নিজামুল হক আবার কোন বিবেচনায়  ট্রাইব্যুনালে বসেছেন সে বিষয়ে শুনানীর জন্য ধার্য্য ছিল আজ। শুনানিতে আসামী পক্ষে  অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র  আইনজীবী ব্যারিস্টার  মওদুদ আহমেদ, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। এসময় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটরদের সাথে  অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  শুনানীতে অংশ নেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ  আহমেদ  শুনানীতে বলেন, এ বিচার একটি রাজনৈতিক রূপ লাভ করেছে।  বিরোধীদল দমনের জন্য ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার কার্যক্রম চলছে তাদেরকে ১৯৯৩ সালে গঠিত  গণতদন্ত কমিশন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছিল। সেটি ছিল একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ।  সেই উদ্যোগের সাথে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক জড়তি ছিলেন। এই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের একটি রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল। এখন আপনি যদি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারকাজ চালিয়ে যান তাহলে এর রাজনৈতিককরণ আরো স্পষ্ট হবে। সেজন্য আপনি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  পদে থাকলে  পদটি আরো  বিতর্কিত হবে এবং আপনি নিজেও বিতর্কিত হবেন। নিরপক্ষে এবং স্বচ্ছ বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই থাকেব ক্রমাগত।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক যদি বলেন যে, তিনি গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত ছিলেননা তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়।
ব্যারিষ্টার মওদুদ বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক  লিখিত আকারে বলুক তিনি কি কারনে এখনো ট্রাইব্যুনালে আছেন। তিনি যদি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যান তাহলে সেটা হবে অসদারচনের শামিল। সুপ্রীম কোর্টের মর্যাদা, সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারপতির মর্যাদার স্বার্থে তার এ পদ থেকে সরে দাড়ানো উচিত। তিনি  বলেন, যেহেতু সরকার তাকে নিয়োগ দিয়েছে তাই সরকার প্রধান বিচারপতিকে পরামর্শ দিতে পারে তাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানীতে অংশ নিয়ে  বলেন, এ ধরনের আবেদনের কথা আমরা কখনো শুনিনি। কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি এভাবে ব্যাখ্যা চাইতে পারেননা। এটি আদালত অবমাননার শামিল। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারপতিকে বলতে পারেননা যে আপনি কেন আদালতে বসছেন  তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।  বিচার কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করা এবং বিলম্বিত করার জন্যই এ ধরনের আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুনানীতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ভারত পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিচারপতি নিজামুল হকের এ পদ থেকে সরে দাড়ানো উচিত। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান কিভাবে তার সুবিবেচনা প্রয়োগ করেছেন, কোন বিবেচনায় এখনো তিনি আদালতে বসা অব্যাহত রেখেছেন, তিনি যে পক্ষপাতদুষ্ট নন এবং কিভাবে তিনি এ  বিচারে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন  সে বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছি তার কাছে।
শুনানী  শেষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, যেখানে চেয়ারম্যানের থাকা বা না থাকার বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি সেখানে  সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মাওলানা সাঈদীর  বিচার শুরু করা ঠিক হবেনা। অ্যাটর্নি জেনারেলের আদালত অবমানার অভিযোগ সম্পর্কে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা অনেকগুলো অভিযোগ করেছি, তার পক্ষে অনেক উদাহরণ পেশ করেছি। তার একটিও তো তিনি খন্ডাতে পারেননি। আদালত অবমাননার একটি উদাহরণও তিনি দিতে পারেননি। তার বক্তব্য রাজনৈতিক। আদালত অবমাননার বিষয়টি দেখবেন আদালত।
শুনানীতে অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, একজন বিচারপতি তার নিজের মামলার বিচার নিজেই করতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি আমাদের কাছে গৌরবের। যেহেতু আপনি সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে এবং তার পক্ষে প্রমাণও হাজির করা হয়েছে তাই সুপ্রিম কোর্টের মর্যদা রক্ষায় আপনার সরে দাঁড়ানো উচিত।
মাওলানা  সাঈদীর অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম আবেদন পেশের যৌক্তিকতা উপস্থাপন করে বলেন, ১৪ তারিখের আদেশে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। বিষয়টি আপনার (বিচারপতি নিজামুল হক) সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। তাই তিনি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা দাবী করেন তার আদালতে বসার অব্যাহত রাখার বিষয়ে।
বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি এ.টি.এম ফজলে কবীর ও বিচারপতি এ.কে.এম. জহির আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন।

দুপুরের বিরতির পর রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর প্রারম্ভিক বক্তব্যের (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর। ৮৮ পৃষ্ঠার স্টেটমেন্টের মধ্যে আজবিকেল ৪ টা পর্যন্ত ৬১ পৃষ্ঠা পাঠ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে ৮৮ পৃষ্ঠার ওপেনিং স্টেটমেন্টের ওপর চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের বক্তব্যে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুট, হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা, দেশত্যাগে বাধ্য করা, হিন্দু মহিলাদের পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া, পাকিস্তান ক্যাম্প স্থাপনে সহায়তা করা, ধর্ষণে সহায়তা করা সহ মানবতা বিরোধী অপরাধের তথ্য তুলে ধরেন।  তারা বলেন, এবিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত অভিলাষের জন্য জন্য নয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। মাওলনা সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।


এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।


মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব9-সাঈদীর আইনজীবীদের ওয়াকআউট


মেহেদী হাসান,১৬/১১/২০১১
মাওলানা দেলাওয়ার  হোসাইন সাঈদীর আইনজীবীরা  ট্রাইব্যুনাল থেকে ওয়াকআউট  করেছেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক কোন বিবেচনায় আদালতে বসেছেন তার ব্যাখ্যা না দেয়া পর্যন্ত আজ  শুনানির জন্য নির্ধারিত বিষয়বস্তু মুলতবী রাখার আবেদন করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম। কিন্তু মুলতবি  আবেদন গ্রহণ না করায় উপস্থিত সাঈদীর আইনজীবীরা একযোগে এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন।
আজ  মাওলানা সাঈদীর  চার্জশিটের  ওপর রিভিউ পিটিশনের শুনানী নির্ধারিত ছিল।  কিন্তু  সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরুর সাথে সাথে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম
২ টি আবেদন দাখিল করেন। প্রথম আবেদনে বলা হয়, ১৪ তারিখ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের পদত্যাগের বিষয়টি তার বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়ে আদেশ পাশের পর  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক কোন বিবেচনায় পুনরায় আদালতে বসেছেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।  অপরটি গতকালের নির্ধারিত রিভিউ পিটিশনের শুনানী মুলতবীর আবেদন জানান। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা না দেয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রিভিউ পিটিশনের শুনানী মুলতবী রাখার প্রার্থনা করেন।


আদালত তখন বলেন,  বিষয়টি আপনারা গতকাল  উপস্থাপন করেননি। আজকে মাত্র করেছেন। আমরা আবেদনটি পাইনি। এ আবেদনে কী আছে আদালত তা অবহিত নয়। এ অবস্থায়  আমরা কিভাবে ওই আবেদনের শুনানী করতে পারি। তখন তাজুল ইমলাম বলেন, ১৪ তারিখের আদেশে বিষয়টি আপনার শুভ বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজকে পর্যন্ত আমাদের আশা ছিল আপনি আদালতে বসবেননা। যেহেতু বসছেন তাই শেষ মুহূর্তে আমরা এই আবেদন দাখিল করেছি। গতকাল দাখিল করলে ওই আবেদনের পূর্ণতা পেতো না।  কারণ আমরা জানতাম না আপনি আজকে আদালতে বসবেন। এপর্যায়ে আদালত তাজুলের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের নির্ধারিত রিভিউ পিটিশনের ওপর শুনানী করেন। ওই আবেদনের শুনানী হবে ২০ নভেম্বর।  

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আবেদন করার সময়  রাষ্ট্রপক্ষের  আইনজীবী সৈয়দ হাযদার আলী অভিযোগ করেন বিচার কাজকে বিলম্বিত করার জন্যই মুলতবী আবেদন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ১৪ নভেম্বর নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তাই মুলতবী আবেদনের শুনানীর প্রশ্নই আসে না।
তখন উভয় পক্ষের  আইনজীবীদের মধ্যে  বিতর্ক শুরু হয়। এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা কোন আবেদন করলেই রাষ্ট্রপক্ষের  প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে বিচার কাজে বাঁধাদানের অভিযোগ করা হয়। তাজুল ইসলাম  আদালতকে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে  অভিযোগ আনা হয়েছে, আপনি অতীতে  ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির  গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগে কেন আদালতে বসেছেন ? নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতে বসতে পারেন না। আপনি এখানে থাকলে আপনার নিজের জন্য যেমন বিব্রতকর; তেমনি আমাদের জন্যও বিব্রতকর। 
তাজুল ইসলামের মুলতবী আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আবারো আদালত দিনের  নির্ধারিত বিষয়ে শুনানীর জন্য নির্দেশ দেন। তখন তাজুল ইসলাম অন্যান্য আইনজীবীদের নিয়ে আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা আদালত থেকে একযোগে বেরিয়ে  যাবার পর আদালত মাওলানা সাঈদীল চার্জশিটের   রিভিউ পিটিশনটিও আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৪ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দুই বিচারপতি এ.টি.এম. ফজলে কবির এবং এ. কে. এম. জহির আহমেদ আদেশ দেন যে, টুাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে  অপসারন বিষয়ে রায় দেয়ার আইনগত এখতিয়ার তাদের  নেই। বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সুবিবেবচনার ওপর  ছেড়ে দেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু  আদালতের রায়ে বিচারপতি নিজামুল হকের বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সে বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা চাচ্ছি কোন বিবেচনায় তিনি  আবার আদালতে বসেছেন। এর ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আজকের রিভিউ পিটিশন মুলতবীর আবেদন জানিয়েছিলাম।  কিন্তু তা গ্রহণ না করায় আমরা বেরিয়ে এসেছি।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, অনুমতি না নিয়ে আদালত থেকে ওয়াকআউট করায় সাঈদীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের নিয়ম সুপ্রিম কোর্টের বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এর মাধ্যমে আদালতের মানমর্যদা ুন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়কে টেনে এনে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন তারা। আদালত বা এজলাসের অনুমতি না নিয়ে কোন আইনজীবীর আদালত থেকে ওয়াকআউট করার কোন বিধান নেই। তিনি বলেন, এটা সংসদ নয়, আদালত। আদালত ত্যাগ করার আগে অনুমতি নিতে হয়। তাজুল ইসলামসহ সাঈদীর আইনজীবীরা এর মাধ্যমে আদালতের মান মর্যাদাকে ুন্ন করেছেন। ডিফেন্স কাউন্সিলের আচার আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও অসৌজন্য। তাই তাজুল ইসলাম এর মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আলাপ আলোচনা করে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।

নিজামুল হককে সরে দাঁড়ানোর দাবি সুপ্রিম কোর্ট বারের


অবিলম্বে  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ থেকে বিচারপতি নিজামুল হক এর  পদত্যাগ দাবি  করেছেন  সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সিনিয়র আইনজীবীবৃন্দ ।

মাওলনা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনাল কক্ষ ত্যাগ করার পর  আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সিনিয়র আইনজীবী বৃন্দ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  বিচারপতি নিজামুল হককে সরে দাঁড়ানোর এ দাবি জানান ।

বিচার বিভাগ, সুপ্রিম কোর্ট  এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিতের  মর্যাদা  সমুন্নত রাখার স্বার্থে  অবিলম্বে বিচারপতি নিজামুল হককে নিজ  উদ্যোগে  সরে দাড়ানোর দাবি জানান ব্রিফিংয়ে উপস্থিত দেশের সিনিয়র আইনজীবীবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে  সুপ্রিম কোর্ট বারের  সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার  বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার এসময় সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ তারিখের আদেশের পর বিচারপতি নিজামুল হকের আবার আদালতে বসা সুবিবেচনার কাজ হয়নি। এটা সুপ্রিম কোর্টের  জন্য মর্যাদাহানিকর বিষয়।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে   লিখিত  বক্তব্য পাঠ ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক । তিনি বলেন, ১৪ তারিখের আদালতের আদেশের পর সকল আইনজীবী আশা করেছিল বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম সুবিচেবনার পরিচয় দিয়ে সরে দড়াবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আজকে আমরা তাকে আদালতে  বসতে দেখে বিস্মিত হয়েছি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকার পক্ষ থেকে সম্প্রতি দায়ের করা কিছু দলিল পত্রে দেখা যায়  বিচারপতি নিজামুল হক ঘাতক দালাল নিমুল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশনের সেক্রেটারিয়েটের  একজন সদস্য ছিলেন। বিএনপি  এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে  তদন্তের  জন্য ১৯৯৩ সালে ঐ  কমিশন গঠন করা হয়। বিচারপতি নিজামুল হক তখন হাইকোর্টের একজন আইনজীবী ছিলেন।  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বর্তমানে আটক বিএনপির ২ জন  এবং জামায়াতের পাঁচ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে  ঐ তদন্ত  কমিশন  রিপোর্ট জমা দেয় ১৯৯৪ সালে ।
মাওলানা সাঈদীর পক্ষ থেকে আইনজীবীরা  গত ২৭ অক্টোবর বিচারপতি নিজামুল হকের বিরুদ্ধে গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত থাকার  অভিযোগ এনে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জমা দেয়া হয়।  বাংলাদেশের সংবিধান, বিচারপতিদের আচরণ বিধি,  সুপ্রীম কোর্ট বিচারপতিদের শপথ,  ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) রোম স্ট্যাটিউটসহ বিভিন্ন  আন্তর্জাতিক চুক্তি যেগুলোতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে ন্যায় বিচার  এবং মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে , যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে প্রণীত আইনের ৬ ধারা  এবং সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনার আলোকে আমরা এ  আবেদন করেছি। গত ১৩ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।  বিচারপতি নিজামুল হকের গণতদন্ত কমিশনের সাথে  সংশ্লিষ্টতা  এবং তার মাধ্যমে যে নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব নয় সে বিষয়ে যুক্তিতর্ক  এবং  সিয়েরালিওন এবং লন্ডনের  দুটি উদাহরণ পেশ করা হয়েছে।  বিচারপতি নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যেসব তথ্য প্রমান পেশ করা হয়েছে তাতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হয়। ১৩ তারিখ শুনানী শেষে ১৪ তারিখ এ বিষয়ে আদালত  বলেন,  তাদের পক্ষে   বিচারপতি নিজামুলক হককে সরে দাড়ানো বিষয়ে  রায় দেয়ার কোন আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের  সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তারা। এখন কোন বিবেচনায় তিনি আবার আদালতে বসলেন সে বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা চাওয়া  হয়েছে তার কাছ থেকে। কারণ ১৪ তারিখের আদেশে আদালত মাওলানা সাঈদীর পক্ষে  দায়ের করা  আবেদন প্রত্যাখ্যান করেননি। ১৩ তারিখের শুনানীতে যেসব যুক্তি এবং উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়েছে তার একটিও  আদালত অস্বীকার করেনি রায়ে। তিনি যে গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত  ছিলেন তাও অস্বীকার করেণনি  আদালত। এসব অভিযোগ এবং যুক্তি আদালতে গৃহীত হয়েছে। এরপর আমরা আমরা আশা করেছিলাম তিনি নিজ থেকে সরে  দাঁড়াবেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১৪ তারিখের আদেশে  মাওলানা সাঈদীর পক্ষে   দায়ের করা আবেদন  নিষ্পত্তি করা হয়েছে তবে আবেদনের মেরিটে না গিয়ে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল বিচাপরপতি নিজামুল হক নাসিমের পক্ষপাতদুষ্টতার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এই বলে যে,  তাদের  একজন সহবিচারকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবার এখতিয়ার তাদের নেই।  চেয়ারম্যানের পক্ষপাতদুষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রমানসহকারে যুক্তি উপস্থাপনের পরও সেটি এড়িয়ে  তার সরে দাড়ানোর বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল বিচারপতি নিজামুল হক এর সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়ার যে আদেশ দিয়েছেন তাকে আমরা সঠিক মনে করি।

দলমত নির্বিশেষে  বারের সব সদস্য মনে করেণ বিচারপতি  নিজামুল হকের পদত্যাগ করা উচিত। সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠীর এ বিষয়ে ঐকমত্য  প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তিনি পদত্যাগ করলেননা। চেয়ারম্যান আজো (বুধবার) একটি রিভিউ আবেদন শুনানীর জন্য আদালতে অন্য দুজন বিচারপতির সাথে বসেছেন। এটি দুভ্যার্গজনক  এবং নজিরবিহনও বটে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা উদ্দাত্ত আহবান জানাচ্ছি বিচারপতি নিজামুল হক, আপনি একনি, অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করূণ। আপনি জোরপূর্বক এ পদে থেকে ন্যায় বিচারের পরিবেশ  দূষিত করবেননা। বিচার বিভাগের ওপর কালিমা লেপন করবেননা। আপনি বিচার বিভাগের ওপর অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন  এবং সর্বপোরি ন্যায় বিচারের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করেছেন। আপানার চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকা প্রসিকিউশনের জন্য ক্ষতিকর এবং সরকারের জন্য বিব্রতকর। আমাদের আশঙ্কা  বিচারপতি নিজামুল হক যদি তার পদে বহাল থাকেন তাহলে তা আগামী দিনগুলিতে অনেক অপ্রত্যাশিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সুতরাং আমরা একযোগে বিচারপতি নিজামুল হকের প্রতি অনতিবিলম্বে পদত্যাগের  আহবান জানাচ্ছি। ”
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানতে চান তার এ বক্তব্য সুপ্রীম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে কিনা।  তখন বার সভাপতিসহ উপস্থিত অন্যান্যরা জানান, সুপ্রীম কোর্টের মর্যাদা, দেশের বিচার বিভাগের মর্যাদা  এবং স্বাধীনতা রক্ষায় এ ঘোষনা দেয়া হচ্ছে  এবং বিচারপতি নিজামুল হককে অবিলম্বে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দাবি জানানো যাচ্ছে।
দু:খজনক ঘটনার অবতারনা বলতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক কি বুঝিয়েছেন সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে  বার সভাপতি  খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সুপ্রীম জুড়িশিয়াল কাউন্সিলে আমাদের যেতে হতে পারে। সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।
ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনারা আগামী রোববার আদালতে যাবেন কিনা ? জবাবে তিনি বলেন, ওইদিন আমাদের আইনজীবীরা আদালতে যাবেন।


এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।


সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব8--বিচারপতি নিজামুল হকের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাঁর বিবেকের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে

১৪/১১/২০১১
বিচারপতি নিজামুল হককে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাড়ানোর আবেদনের বিষয়টি তাঁর বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারপতির এব্যাপারে আদেশ দেয়ার আইনগত এখতিয়ার নেই বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অপর দুই বিচারপতি এবিষয়ে মন্তব্য বা আদেশ দিতে পারেন না। তাই বিষয়টি তার (বিচারপতি নিজামুল হক) বিবেকের ওপর নির্ভর করে।
 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য বিচারপতি এ. টি.এম ফজলে কবীর ও বিচারপতি এ. কে. এম. জহির আহমেদ আজ  এ আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, এর মাধ্যমে বিচারপতি নিজামুল হক-এর প্রত্যাহার সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা হলো।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে প্রত্যাহারের জন্য জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গত ২৭ অক্টোবর এ আবেদনটি দায়ের করেন। গত রোববার উভয় পক্ষের শুনানী গ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ সোমবার আদেশ প্রদানের দিন ধার্য করেন। 

আদেশের পর মাওলনা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার  আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আমাদের আবেদন খারিজ করেননি। তারা বিষয়টি বিচারপতি নিজামুল হকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আমরাও বিষয়টি তার ওপর ছেড়ে দিয়েছি। অন্যান্য আইনজীবীরাও দাবি জানিয়েছেন তার নিজ থেকেই সরে যাওয়া উচিত। গোটা জাতি এখন অপেক্ষা করছে তিনি কি সিদ্ধান্ত নেন তা দেখার জন্য।
তিনি বলেন, তাঁকে সরে দাড়ানের আবেদনের শুনানীতে আমরা যেসব যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি আদালত আদেশে তা খন্ডন করেননি। তার মানে আমাদের যুক্তি গৃহীত হয়েছে এবং রয়ে গেছে। আইনজীবীরাও বলেছেন, তাঁর নিজ থেকে সরে দাড়ানো উচিত। আমাদের দাবি তিনি অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। যত দ্রুত তিনি সরে দাঁড়াবেন ততই তা নিজের জন্য এবং ট্রাইব্যুনালের জন্য মঙ্গলজনক। জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষ করছেন তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে কবে চলে যাবেন। বিচারপতি নিজামুল হক যদি পদত্যাগ না করেণ তাহলে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের সামনে এখনো একটি পথ খোলা আছে। আমরা সুপ্রীম জুড়িশিয়াল কাউন্সিলের  কথা চিন্তা করব।

তিনি বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য পরিচালনা করলে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবো।  অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এই আদেশের ফলে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসাবে নিজামুল হক থাকতে পারবেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারপতি তাঁদের এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে সাঈদীর আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন।


লন্ডনের তিন আইনজীবী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন- ট্রাইব্যুনাল :
আট নভেম্বর মাওলানা সাঈদী এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নিযুক্ত লন্ডনের তিন আইনজীবী স্টিভেন কে কিউসি, টবি ক্যাডম্যান  এবং জন কামেহ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে পদত্যাগের  আহবান জানিয়ে একটি চিঠি লেখেন। ট্রাইব্যুনাল রেজিস্ট্রার কার্যালয়  ৯  নভেম্বর সে চিঠি গ্রহণ করে। দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় সে চিঠি প্রকাশিতও হয়েছে।

আজ মাওলানা সাঈদীর আবেদন নিস্পত্তির  শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের  চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু লন্ডনের তিন আইনজীবীর চিঠির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এর সাথে সাথেই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত মাওলানা সাঈদীর কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি কোন বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন কিনা। মাওলানা সাঈদী হ্যাঁ সূচক জবাব দেন। এরপর আদালত বলেন, আপনি নিজে সরাসরি  তাদের নিয়োগ দিয়েছেন কিনা। জবাবে মাওলানা সাঈদী বলেন, আমার দেশীয় যেসব আইনজীবী রয়েছেন তাদের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরপর আদালত তার কাছে জানতে চান, আইনজীবীর চিঠি এবং তারা  যেসব চিঠিপত্র লিখেন এবং বিবৃতি প্রদান করেন সে বিষয়ে আপনার সাথে  কি কোন পরামর্শ করেন ? জবাবে মাওলানা সাঈদী বলেন, সে সুযোগ তো তাদের নেই মাননীয় আদালত। তখন আদালত বলেন, ঠিক আছে। ৯ নভেম্বরে লন্ডনের তিন আইনজীবীর চিঠিসহ তারা বিবৃতি দেন সে বিষয়ে আপনার কোন ধারণা আছে কিনা। মাওলানা সাঈদী বলেন, না। এরপর মাওলানা সাঈদীকে তার আসনে বসতে বলেন।
মাওলানা সাঈদীকে আদালত যখন জেরা করেন তখন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সেখানে উপস্থিত ছিলেননা। অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আদালত তার কাছে জানতে চান তিনি  ৯ নভেম্বরের চিঠি বিষয়ে কিছু জানেন কিনা বা এ চিঠি লেখার আগে তার কাছে কোন পরামর্শ করা হয়েছে কিনা। তাজুল ইসলাম এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। এরপরই ব্যারিষ্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন।
এবিষয়ে সংক্ষিপ্ত শুনানী শেষে বিচারপতি এ.কে.এম. জহির আহমেদ আদেশ ঘেষানা করেন। আদেশে বলা হয়, লন্ডনের আইনজীবী স্টিভেন কে কিউসি, টবি ক্যাডম্যান  এবং জন কামেহ তারা তাদের নিজ দেশের আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে সরে দাঁড়ানোর চিঠির বিষয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, তারা কোন্ ক্ষমতা এবং কর্তত্ববলে এধরনের চিঠি লিখেছেন।  এটি একটি স্বাধীন দেশের হাইকোর্টের একজন বিচারপতির প্রতি অবমাননার শামিল। আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন মাওলানা সাঈদী তাদের মক্কেল। কিন্তু তারা বাংলাদেশের নাগরিকও নন এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্যও নন। তারা বিদেশী নাগরিক। আদালত বলেন, আমরা বুঝতে অক্ষম যে একটি বিচারাধীন বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়ে ইমেইল বার্তা পাঠাতে পারেন। দাবী অনুযায়ী একজন আইনজীবী যদি মক্কেল কর্তৃক নিযুক্ত হয়েও থাকেন তবুও তাকে তার নিজ দেশের এবং অভিযুক্ত যে দেশে অবস্থান করেন সেদেশের আচরণবিধি মানতে বাধ্য থাকবেন। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, উক্ত তিন আইনজীবী আলজাজিরা টেলিভিশনসহ নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। গত ৯ নভেম্বর তাদের  প্রেরিত চিঠির ফুটনোটে উল্লেখ করেছেন চিঠিটি গোপনীয়। কিন্তু  একই চিঠিটি দৈনিক সংগ্রামসহ অন্যান্য জাতীয় দৈনিকে পাঠানো হয়েছে।  আদালত এ আদেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে বিষয়টি গোপনীয় হয় কিভাবে। এতে পরিস্কার যে একটি স্বাধীন দেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতিকে অবমাননার জন্য এ চিঠি লিখা হয়েছে। এ ট্রাইব্যুনালের আদেশটি লন্ডনের বার স্ট্যন্ডার্ডস বোর্ড এবং বাংলাদেশের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তারা আইনজীবী হিসেবে মতামত দিতে পারেন।  তারা সাঈদী নিযুক্ত  আইনজীবী কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই তারা সাঈদী  এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধরী নিযুক্ত আইনজীবী। আমরা তাদের বিষয়ে অনেক আগেই বলেছি। বার কাউন্সিলের কাছে আবেদনও জানিয়েছে। কিন্তু আমাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমরা আবারো আবেদন করব।



এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।


রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব7-চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের আবেদন নিষ্পত্তির আগে বিচার শুরু করা যায়না

মেহেদী হাসান, ২৮/১০/২০১১
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের যে আবেদন জানানো হয়েছে সে বিষয়ে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচার শুরু করা অনৈতিক, বেআইনী  এবং আইন পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আইনজীবীরা। তাদের মতে যিনি বিচার করবেন তার বিরুদ্ধে যেহেতু অনাস্থা এসেছে তাই তার  এ বিচার কাজের শুনানীতে অংশ নেয়ার কোন নৈতিক অধিকার নেই ।

যুদ্ধাপরাধ তথা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষ থেকে।   যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আটক মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের আবেদন জানান। মাওলানা সাঈদী এতে অভিযোগ করেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি  (ঘাদানিক)  গঠিত  জাতীয়  গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট এর সদস্য ছিলেন।

যে তদন্ত  কমিশন বর্তমানে আটক নেতৃবৃন্দকে   আগেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে সেই কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত হাইকোর্টের তৎকালীন এ্যাডভোকেট  (বর্তমানে বিচারপতি) নিজামুল হককে  করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। 

মাওলানা সাঈদী তার আবেদনে বলেন, যেহেতু বিচারপতি নিজামুল হক গণতদন্ত কমিশনের সেক্রেটারিয়েট মেম্বার ছিলেন তাই নিরপেক্ষ বিচারের বিষয়ে মারাত্মক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তার এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে   ট্রাইব্যুনালের  বিচারপতি হিসেবে যেমন তিনি   বিশ্বাসযোগ্যতা যোগ্যতা   হারিয়েছেন তেমনি ট্রাইব্যুনালের   স্বাধীনতা  এবং সততা  হুমকির মুখে পড়েছে।

মাওলানা সাঈদী  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি, ট্রাইব্যুনাল   এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রায়ের  উদাহরণ পেশ করে তার আবেদনে বলেন, যিনি আগে থেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে  পক্ষ নিয়ে কাজ করেছেন এবং জড়িত ছিলেন সেই একই ব্যক্তিদের বিচারে তিনি বিচারের আসনে বসতে পারেননা। সেক্ষেত্রে  ন্যায় বিচার পাওয়া  নিয়ে সংশয় দেখা যায়।  এটি আন্তর্জাতিক সমস্ত রীতিনীতি, আইন, বাংলাদেশের সংবিধান  এবং বিচারপতিদের কোড অব কনডাক্ট এর পরিপন্থী। 

বিচারপতিদের কোড অব কনডাক্ট এর ৩(৬) (ক) ধারা  উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারপতির নিরপেক্ষতা  যদি যৌক্তিকভাবে প্রশ্নপিদ্ধ করা হয় তাহলে ঐ বিচার প্রকৃয়ায় তিনি বিচারপতি হিসেবে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। 

মাওলানা সাঈদীর দায়ের করা  ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৩ নভেম্বর। অন্যদিকে মাওলানা সাঈদীর বিচারের শুনানী শুরু হতে যাচ্ছে   আগামীকাল ৩০ অক্টোবর থেকে।

এ প্রসঙ্গে  বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রত্যাহারের আবেদনের নিষ্পত্তি শেষ না করে এ বিচার শুরু করা বেআইনী, আইন পরিপন্থী  এবং অনৈতিক। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুরাহা না করে বিচার  শুরু করলে ধরে নেয়া হবে তারা গায়ের জোরে বিচার করতে চাচ্ছেন। সেটি হবে বিচারের নামে প্রহসন  এবং এর কোন গ্রহণযোগ্যতা থাকবেনা।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে   আবেদন দায়েকরকারী  সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী  ব্যারিষ্টার রাজ্জাক  এ বিষয়ে  বলেন, গণতদন্ত কমিশন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিল সেই প্রতিবেদনই এখন প্রসিকিউশন প্যানেল ট্রাইব্যুনালের কাছে দাখিল করেছে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমান হিসেবে। তাই তিনি (চেয়ারম্যান) এই মামলাটির  শুনানী করতে পারেন না। তাই আমরা তাকে প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারক হিসাবে নেওয়া তাঁর শপথের লঙ্ঘন। বিচারপতিদের কোড অব কন্ডাক্টের ধারা (কজ) ১,২,৩(৬)(এ), ৩(৬)(ডি)(৪) এর লঙ্ঘন। এছাড়া সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১০ অনুচ্ছেদেরও লঙ্ঘন।
আর্জেনটিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট পিনোশের বিচার যখন লন্ডনের হাউস অব লর্ডসে ওঠে তখন হাউস অব লডর্সের একজন  বিচারপতি লর্ড হসম্যানের বিরুদ্ধে  পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। লর্ড হসম্যানের স্ত্রী ছিলেন এ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর বোর্ড অব ডাইরেক্টরের একজন সদস্য। আর পিনোশের বিচারের ক্ষেত্রে  এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনালের  সম্পৃক্ততা ছিল। সে কারনে পিনোশের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় লড হসম্যানের  নিরপেক্ষতা নিয়ে এবং তাকে সরে দাড়ানোর জন্য বলা হয়। লর্ড হসম্যান সরে দাড়ালেন বিচারকের আসন থেকে।


এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার : পর্ব-৬ : নিজামুল হক বিতর্ক//ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়ার দাবী আইনজীবীদের

মেহেদী হাসান০৫/০৭/২০১১
যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল  ভেঙ্গে দেয়ার  দাবি জানিয়েছেন আইনজীবরা। একই সাথে তারা অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক  নাসিমকে তার পদ থেকে সরে দাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেছেন তিনি ঐ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশন এবং গণআদালতের সাথে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তথ্য প্রমান উপস্থাপন করে আজ আন্তর্জাতিক একটি সেমিনারে আইনজীবীরা এ দাবি   জানান।  সেমিনারে অংশ নেয়া দেশের খ্যাতিমান আইনজীবীরা বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং  এ ধরনের বিচারের যোগ্যতা ও দক্ষতা তাদের নেই। এ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন আশা নেই।  যুদ্ধাপরাধ বিচার নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে  বিরোধেী ইসলামী দলকে ধ্বংস করারই তাদের লক্ষ্য।

নাগরিক ফোরাম আয়োজিত হোটেল শেরাটন, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বক্তারা বলেন, ট্রাইব্যুানলের চেয়ারম্যান পদে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই।   কারণ  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বর্তমানে যাদের আটক করা হয়েছে তিনি আগে থেকেই তাদের একই অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাদের বিচার দাবি করেছেন। একজন বিচারপতি হিসেবে তার এ পদ গ্রহণ করাও ন্যায়সঙ্গত হয়নি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার পদ্ধতি: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কি রাবার স্ট্যাম্প? র্শীষক এ  সেমিনারে আইনজীবীরা বলেন, বিচার নয় বরং জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার জন্যই যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। এটি এখন আর  এদেশের  কারো কোন বক্তব্য নয় বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এ কথা বলতে শুরু করেছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের চলতি সংখ্যার  একটি প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এর সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে  সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে  বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার  মওদূদ  আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যাস্টিার জমির উদ্দিন সরকার এমপি, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাদেক খান, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বদরুদ্দোজা বাদল, ঢাকা বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, সুপ্রীম কোর্ট আইনীজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হোমাম কাদের চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বৃটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান সেমিনারে যোগ দেয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসে পৌছলে তাকে সেখান থেকে ফেরত পাঠানো হয় সরকারের নির্দেশে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহেল মাসুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ   যুদ্ধাপরাধ আদালত বিষয়ে চার দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদে থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই। তিনি ১৯৯২ সালের গণআদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিলেন। এছাড়া ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট সদস্য ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ  বলেন, কোন বিচারের সাথে আগেই যাদের দূরতম কোন সম্পর্ক  থাকে তারা কোন দিন সেই একই বিচারের ক্ষেত্রে বিচারকের আসনে বসতে পারেননা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন বিচারপতি নিজামুল হক কি তার  পূর্ব সম্পৃক্ততার বিষয় অস্বীকার করতে পারবেন?

বন্দী ব্যক্তিদের জামিন দিতে হবে দাবি করে মওদূদ আহমদ বলেন অনেক দিন তাদেরকে আটকে রেখেছেন আপনারা।  এক বছর পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন চার্জশীট  দিতে পারেনি।  এ থেকে বোঝা যায় রাজনৈতিক কারণে  ট্রাইব্যুনাল তাদের বিষয়ে বিলম্ব করছে এবং আটক রেখেছে।  এ জাতীয় বিচারে কোনদিন স্বচ্ছতা আশা করা যায়না।

ট্রাইব্যুনাল যোগ্যতা হারিয়েছে উল্লেখ করে মওদূদ আহমদ বলেন, এ  ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দিতে হবে এবং নতুন করে গঠন করতে হবে।    যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালের এ ধরনের বিচারের বিচারের কোন অভিজ্ঞতা  নেই।  তারা অদক্ষ। কোন দিন এ জাতীয় বিচার তারা করেণনি।  এ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধ বিচার  করার ক্ষমতা রাখেনা। ট্রাইব্যুনালের  বিচারপতি আইনজীবী এবং তদন্তকারী অনেকেই ঘাতক দালাল, গণআদালত এবং গণতদন্ত কমিশনের সাথে জড়িত। তারা নিরপেক্ষ নন। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইনকে সুরক্ষার জন্য যে সংবিধান সংশোধন করা হয় তা ছিল সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। তাই এ  বিচার প্রকৃয়াও সাংবিধানিক নয়।

চারদফা দাবি জানিয়ে মওদূদ আহমদ বলেন, যদি আপনারা এগুলো না মানেন তাহলে  প্রমান হবে আপনারা রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে ধ্বংস করার জন্য এ বিচার করছেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্য তার পরিবার বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু  আপনারা সে অনুমতি দেননি। একইভাবে জামায়াত নেতাদেরও এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় আপনাদের নিরপেক্ষ বিচারের সাহস নেই। টবি ক্যাডম্যান নামে একজন বৃটিশ আইনজীবী আজকের এ সমাবেশে  যোগ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে বিমান বন্দরে আটকে দেয়া হয়েছে। এ থেকেও বোঝা যায় আপনারা নিরপেক্ষ  এবং স্বচ্ছ নন।  গোটা জাতি এবং বিশ্ব বুঝে গেছে এ বিচার  হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে বিরোধী দল দমনের জন্য।  ইকোনমিস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও সে কথা বলা আছে।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, অভিযোগকারী কখনো বিচাররে আসনে বসতে পারেননা। যিনি একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেণ তিনি কি করে তার বিচার করবেন? এ বিচার  তো ন্যায় বিচার হতে পারেনা।
খনদকার মাহবুব হোসেন বলেন,  ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের ধ্বংস করার জন্য এ বিচার চলছে। বিচারের নামে কেউ কেউ  এদেরকে ফাঁসিতে ঝোলানোরও স্বপ্ন দেখছে। তিনি বলেন, আগে আসল  যুদ্ধাপরাধী ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তার বিচার করুন তারপর দেশীয়দের বিচারের কথা চিন্তা করা যাবে।

মাহবুব হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ আজকের এই  সেমিনার সম্পর্কে বলবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য এ সমাবেশ করা হয়েছে। কিন্তু এখন আর সে সুযোগ নেই। কারণ ট্রইব্যুনালের
চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম গণতদন্ত কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন  এবং  তা সবাই জেনে  গেছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জামায়াত  এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ এদেশীয় লোকজন যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারকে রাজনৈতিক বিচার হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে তখন  সরকার বলেছে আমরা যুদ্ধাপরাধ বিচারকে বানচাল করার জন্য এসব নাকি বলছি।  কিন্তু এ বিচার যে সত্যিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষকে  দমন করার জন্য করা হচ্ছে তার  পক্ষে শক্ত প্রমান রয়েছে। আজ সমস্ত আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে এ বিচার রাজনৈতিক। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা উদ্দেশ্য নয়। গত ২১ জুন এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এখন পর্যন্ত যে সাত জনকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে তার মধ্যে ৫ জনই জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবঙ দুজন বিএনপির নেতা। এতে  এ ধারণার জন্ম নিচ্ছে যে,  শুধুমাত্র বিরোধী নেতাদের টার্গেট করার জন্যই এ বিচারের আয়োজন চলছে। 

লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘দি  ইকোনমিস্ট’ এর   চলতি সংখ্যার  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “ন্যায় বিচার  প্রতিষ্ঠা নয় বরং বিরোধী ইসলামিক রাজনৈতিক দল  জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার জন্যই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ”

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আপনাদের সাহস থাকলে ট্রাইব্যুনালে  বিদেশী  বিচারপতি, আইনজীবী এবং তদন্তকারী নিয়োগ দেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আপনাদের সে সাহস নেই। কারণ আপনারা মিথ্যার ওপর বিচার করছেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আবারো চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, সাহস থাকলে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বাতিল করুণ। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আপনারা তা করতে পারবেননা।  বিচাররে সিআরপিসি  প্রয়োগ না করার কারনে তিনি  একে আনসিভিলাইজড হিসেবে উল্লেখ করেণ।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যেখানেই এ জাতীয় বিচার হয় সেখানেই আগে থেকেই অপরাধীদের তালিকা করা থাকে। কিন্তু আজ ৪০ বছর পরও নতুন করে লোকজনকে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এক বছর   আটক রাখার পরও  তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ  দায়ের করতে পারেনা। অথচ ৪০ বছর আগে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি উদাহরণ টেনে  ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,  সম্প্রতি   আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ জাতীয় অভিযোগে একজনকে গ্রেফতারের একদিন পরেই চার্জশিট প্রদান করা  হয়।

সাদেক খান  ইকনোমিস্ট এর  প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন এ বিচার করা হচ্ছে জামায়তে ধংস করার জন্য। আজ দেশে যা কিছুই করা হচ্ছে তার মূল   উদ্দেশ্য হল দেশকে অকার্যকর করা।

এ্যাডভোকেট জয়নুল  আবেদিন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের   ঘাতক দালাল এবং গণ তদন্ত  কমিশনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে বলেন, আপনারা এ পদ গ্রহণ করা উচিত হয়নি। আপনি পদত্যাগ করে আবার হাইকোর্টে ফিরে আসুন।

তিনি বলেন, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করেনা  তিনি এখন আইনমন্ত্রী। তারা গোলাম আযমনে ফাঁসির রায় দিয়েছিলেন। তিনি এখন   ঘাতক দালালের নিজামুল হক নাসিমকে বানিয়েছেন ট্রাইব্যুানলের চেয়ারম্যান যাতে গোলাম আযম ছাড়া বাকী যারা ছিলেন তাদেরও ফাঁিসর ব্যবস্থা করতে পারেন।

ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি শুধু হাইকোর্টের বিচার করবেন। এটি সংবিধানে বলা আছে। কিন্তু হাইকোর্টের বিচারপতিকে করা হয়েছে   ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। আবার নিজামুল হক নাসিম  এটিএম ফজলে কবিরের চেয়ে ২৯ জন পরে ছিলেন সিরিয়ালের দিক দিয়ে কিন্তু। কিন্তু তার অধীনে এখন  জুনিয়র হিসেবে কাজ করছেন ফজলে কবির। তিনি বলেন এ ট্রাইব্যুনাল গুয়ানতানামো কারাগারের চেয়েও খারাপ।

সানাউল হক বলেন, আন্তর্জাতিক  আদালতের “আও” নেই এখানে। বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করাই এর আসল কাজ।



এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.Sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।




বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব5--বিচারপতি নিজামুল হককে নিয়ে বিতর্ক//ঘাদানিক ও গণতদন্ত কমিশনের সাথে সংশ্লিষ্টতা

মেহেদী হাসান,৩১/৭/১১
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর  চেয়ারম্যান  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি  (ঘাদানিক)  গঠিত  জাতীয়  গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট এর সদস্য ছিলেন। এ তদন্ত কমিশন বর্তমানে কারাবন্দী ছয় নেতৃবৃন্দসহ  মোট ১৬ জনকে  যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে দুই দফা তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে ১৯৯৪ এবং ১৯৯৫ সালে।

গণতদন্ত কমিশনের সেক্রেটারিয়েট এর কাজ ছিল উক্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজে  কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করা। 

বিচারপতি নিজামুল হক  নাসিম গণতদন্ত কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত থাকা  ছাড়াও ১৯৯২ সালে গণআদালতের রায় বাস্তাবায়নের দাবিতে তখন সমাবেশে  অংশ নিয়েছিলেন। অতীতে একাধিক রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততারও প্রমান পাওয়া গেছে বিচারপতি নিজামুল হকের বিরুদ্ধে। তিনি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এস এম হল শাখার  জাসদ ছাত্রলীগের জিএস ছিলেন।

জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালতের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও  ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করে জাতীয় গণতদন্ত কমিশন। কবি সুফিয়া কামালকে করা হয় এর চেযারম্যান। কমিশন ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে যুদ্ধপারাধের অভিযোগ তদন্ত করে।

যে তদন্ত  কমিশন বর্তমানে আটক নেতৃবৃন্দকে   আগেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে সেই কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত হাইকোর্টের তৎকালীন এ্যাডভোকেট  (বর্তমানে বিচারপতি) নিজামুল হক নাসিমকে করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান।  ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমও তখন গণতদন্ত কমিশিনের সেক্রেটারিয়েট সদস্য ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের অপর প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু  গণআদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জাহানারা ইমামের সাথে ঢাকা, রাজশাহীসহ সারা দেশে অসংখ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম শুধু যে গণতদন্ত কমিশনের সাথে  সম্পৃক্ত ছিলেন তাই নয় বরং জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত ১৯৯২ সালে  জামায়াতের তৎকালীন আমীর প্রফেসর গোলাম আযমের  বিরুদ্ধে যে ফাঁসির রায় দিয়েছিল সেই রায় বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।  গণআদালতের রায়ের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহনের দাবি জানিয়ে ১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল শুক্রবার সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির  কক্ষে আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের একটি সভা হয়। এ সভায় অংশগ্রহণ করেণ বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক। এ বিষয়ে ১৯৯২ সালে ১১ এপ্রিল দৈনিক সংবাদে পরিবেশিত প্রতিবেদনে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নাম রয়েছে।
এসব ডকুমেন্ট আসামী পক্ষ হাজির করেছে ট্রাইব্যুনালে।

তাছাড়া গণআদালতের কারনে জাহানারা ইমামসহ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে তখন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছিল সেই মামলায়  আসামী পক্ষের আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের সাথে তখন  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমও আইনী সহায়তা প্রদান করেণ।

যুদ্ধাপরাধ তদন্তে কবি সুফিয়া কামালকে  চেয়ারম্যান করে যে  জাতীয় গণতদন্ত কমিশন গঠন করা হয় সেই কমিশনকে তাদের কাজে সহায়তা করার জন্য গঠন করা হয় তদন্ত কমিশন সেক্রেটারিয়েট। আইনজীবী, সাংবাদিক এবং লেখকদের সমন্বয়ে মোট ৪০ জন  সদস্য  ছিলেন  সেক্রেটারিয়েটে ।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম যে ঘাদানিক ও গণতদন্ত কমিশনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তার প্রমান গণতদন্ত কমিশনের প্রথম ও দ্বিতীয় রিপোর্ট, শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত  এবং লিখিত  দুটি বই যথাক্রমে ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’, ‘গণ আদালতের পটভূমি’  এবং বিবিসি সাংবাদিক সাবির মুস্তাফা অনুদিত গণতদন্ত কমিশনের ইংরেজি ভার্সনসহ  (রিপোর্ট অন দি ফাইন্ডিংস অব দি পিপলস ইনকোয়ারি কমিশন..) সর্বত্র নিজামুল হক নাসিমের  নাম উল্লেখ রয়েছে সেক্রেটারিয়েট সদস্য হিসেবে।

কারাবন্দী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ, মুহম্মদ কামারুজ্জামান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আব্দুল কাদের মোল্লাসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের তদন্তে জাতীয় গণতদন্ত কমিশন গঠন করা হয় ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল সমন্বয় কমিটি এ  কমিশন গঠন করেণ। শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত এ বিষয়ক বইয়ে  উল্লেখ করা হয়েছে-জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে  গঠিত গণআদালত গোলাম আজমের যে প্রতীকী ফাঁসির রায় দিয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত এবং তাদের বিচারের দাবিতে জনমত তৈরির লক্ষ্যে গঠিত হয় গণতদন্ত কমিশন।

১৯৯৪ সালের ২৬ মার্চ প্রথম দফায় কমিশন আটজনকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরা হলেন আব্বাস আলী খান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল আলীম (বর্তমানে জামিনে মুক্ত) মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আব্দুল মান্নান, আনোয়ার জাহিদ এবং আব্দুল কাদের মোল্লা।

১৯৯৫ সালের ২৬ মার্চ কমিশন  তাদের দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এখানে যাদের  বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করা হয়  তারা হলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আল আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ, মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, মাওলানা আব্দুস সোবহান, এ এস এম সোলায়মান,  মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন, এবিএম খালেক মজুমদার এবং ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন।

দৈনিক সংবাদের খবর:
জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত ১৯৯২ সালে প্রফেসর গোলাম আযমের প্রতীকী ফাঁসির যে রায় প্রদান করে সে রায়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সুপ্রীম কোর্টে একটি সমাবেশ করে তখন। সে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। ১৯৯২ সালে ১১ এপ্রিল দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত  “আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের দাবি: গণআদালতের রায় সম্পর্কে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে” শীর্ষক খবরে  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নাম রয়েছে সভায় উপস্থিত অন্যান্যদের সাথে। 

সংবাদে পরিবেশিত খবরে লেখা হয় “গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ আইনজীবী সমিতি সমূহের সমন্বয় পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতির  কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেণ সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক শামসুল হক চৌধুরী। সভার প্রস্তাবে গণআদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহনের  জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়।.......... সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম আমীর উল ইসলাম, শফিক আহমেদ, আব্দুল বাসেত মজুমদার, আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, আফসার উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মাঈনুদ্দীন, আ ফ ম মেসবাহউদ্দীন, শামসুদ্দীন মিঞা, কে এম সাইফুদ্দীন আহমেদ, এম কে রহমান, নিজামুল হক নাসিম, ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল মান্নান, আব্দুল গণি তালুকদার, ফরিদ আহমদ, মমতাজ উদ্দিন ফকির।  খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।”

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা:  বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নকালে  এস এম হলের একজন ছাত্র ছিলেন। তিনি এস এম হল শাখার জাসদ ছাত্রলীগের জিএস নির্বাচিত হন। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হন। এর আগে পটুয়াখালি সরকারি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের  (আওয়ামী লীগ) একজন সাধারন মানের কর্মী/সমর্থক ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন তার কলেজ জীবনের পরিচিতরা। এ আসামী পক্ষ থেকে এ তথ্যও দাখিল করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে।


এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.Sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।

বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব4-শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার

মেহেদী হাসান,৩/১০/২০১১
আজ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  চার্জ গঠন করা হল। চার্জ গঠনের আদেশ উপলক্ষে সকাল দশটার দিকে মাওলানা সাঈদীকে আদালত কক্ষের কাঠগড়ায়  হাজির করা হয়। এরপরই চার্জ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
যেসব অভিযোগে চার্জ গঠন করা হল তাকে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার হিসেবে আখ্যায়িত করলেন মাওলানা সাঈদী।
মাওলানা সাঈদী নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে দৃঢকণ্ঠে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বললেন, “আমার   বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা।  একাত্তরে আমি কোন অপরাধ করিনি । কোন রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার তো দূরের কথা কোন পদেও আমি ছিলাম না। মাবতাবিরোধী নয়, মানবতার পে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে বক্তব্য দিয়েছি। আমাকে অন্য কেউ রাজাকার বলেনা। কেবল ভারতের রাজাকাররাই আমাকে রাজাকার বলে।

আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সহস্রাধিক রচনা লেখা হয়েছে। এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন মিথ্যা। এমন মিথ্যা প্রতিবেদনের জন্য আল্লাহর আরশ কাঁপবে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে যারা এমন প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাদের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে। আমি সেই লানত দেখার অপোয় আছি।’
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে অভিযোগে চার্জ গঠনের  আদেশ ঘোষণার পর মাওলানা সাঈদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি অর্ডার ইংরেজিতে দিয়েছি এখন আপনার সুবিধার্থে বাংলায় বলব।  আপনি  যদি দোষী বা নির্দোষ হন তা হলে বলবেন।
জবাবে মাওলানা  সাঈদী বলেন, ‘বাংলায় দেওয়ার দরকার নেই আপনার ইংরেজি অর্ডার আমি বুঝতে পেরেছি।’ এরপর  তিনি তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানান। 
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তখন বলেন, ‘এ ধরনের কোন সুযোগ নেই। মাওলানা সাঈদী তখন  বলেন, ‘সুযোগ না থাকলে আমি দু-তিন কথায় এর জবাব দেবো। এরপর  মাওলানা সাঈদী প্রথমে সবাইকে সালাম দিয়ে তার কথা বলা  শুরু করেন।

মাওলানা সাঈদী ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি তখন হজ করে এসেছিলেন। হজের নুরানি আভা চেহারায় তখনো নষ্ট হয়নি। আমাকে এখানে আনার পর একজন প্রসিকিউটর আমার নাম বিকৃত করে উচ্চারন করেছিলেন। আমি আশা করেছিলাম, আপনি জিজ্ঞেস করবেন, এইটা কোথায় পেয়েছেন? উনার সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট বা অন্য কোন দলিলপত্র থেকে পেয়েছেন কি-না?

কিন্তু আপনি তা করলেন না। বরং অর্ডারে ওই নামে আমাকে উল্লেখ করলেন।
আপনি একদিন বলেছিলেন, আল্লাহ আপনাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনি সেই দায়িত্ব পালন করতে চান। আসলেই বিচারকের দায়িত্ব অনেক বড়। হাশরের দিনে সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের নীচে ছায়া পাবেন।  প্রথম শ্রেণি হচ্ছেন, ন্যায় বিচারক।  তাই আমি আশা করি আপনি ন্যায় বিচার করবেন।
বিচারকের দায়বদ্ধতা আল্লাহ ও বিবেকের কাছে। তৃতীয় কোন স্থানে দায়বদ্ধতা থাকলে ন্যায় বিচার করা যায় না। বরং যেটা করা হয়, সেটা জুলুম ।  আর জুলুমের পরিণাম জাহান্নাম।  আমার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের কোন অভিযোগ আসেনি। ১৯৮০ সালে জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য হওয়ার পর এটা আসতে শুরু করে। যখনই এ ধরণের অভিযোগ এসেছে, আমি প্রতিবাদ করেছি, সংসদে বলেছি, মামলা দায়ের করেছি। যার অনেকগুলো এখনো বিচারাধীন রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ করা তো দূরে থাক, বিগত অর্ধ শতাব্দী ধরে দেশে বিদেশে মানবতার  রক্ষায় কাজ করেছি।  আমার বিরুদ্ধে চার সহস্রাধিক পৃষ্ঠার একটি রচনা তৈরি করা হয়েছে। যারা এটা রচনা করেছেন, তাদের মনে আল্লাহ’র ভয় ছিলো না। তাই তারা এটা করতে পেরেছেন। রাজাকার কমান্ডার হওয়াতো দূরে থাক, তাদের সঙ্গে আমার কোনই সম্পর্ক ছিলো না। আমি শাান্তি বাহিনীর সদস্য ছিলাম না, রাজাকার ছিলাম না। পাক বাহিনীর সঙ্গে আমি এক মিনিটের জন্যও বৈঠক করিনি।
আমি চাই, আপনি আমাকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিবেন। দিতে পারবেন। আমি একজন নিরীহ মানুষ। এই অবিচার করা হলে, আল্লাহর আরশ কাঁপবে। আল্লাহর লানতে পড়বে। সারা পৃথিবী  তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে।

আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সহস্রাধিক রচনা লেখা হয়েছে। ‘এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন মিথ্যা। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে যারা এমন প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাদের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে। আমি সেই লানত দেখার অপোয় আছি।’
আমি কখনোই শান্তি কমিটিতে বা রাজাকার, আলবদর ছিলাম না। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে এক দিনের বা এক মিনিটের জন্যও আমার সাথে কোন সম্পর্ক ছিলনা। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্ভাগ্যজ্জনক। সুরা হুজরাতের ১১ নং আয়াতে  নামের বিষয়ে বলা আছে- ‘কোন মানুষকে বিকৃত করে ডেকোনা।’

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করে মাওলানা সাঈদী বলেন, ‘আল্লাহর আরশের নিচে সাত শ্রেণির মানুষ ছায়া পাবে। তার মধ্যে ন্যায় বিচারকরা প্রথমেই রয়েছেন। আপনাদের কাছ থেকে সেই ন্যায় বিচার আশা করি। তাই আপনি ন্যায় বিচার করবেন। বিচারকদের নিরপেক্ষতা, বিবেক, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা না থাকলে সুবিচার নিশ্চিত হয়না।

‘৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক যুগের বেশি সময় আমাকে নিয়ে কোন কথা হয়নি।  ১৯৮০ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়ার পর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় আমাকে গ্রেফতারের পর। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। ১৯৯৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে সরকার গঠন হয়, সেই সংসদে আমি ২০ মিনিটের বক্তব্য দিয়ে বলেছিলাম, আমি রাজাকার নই। সেই ২০ মিনিটের বক্তব্যের একটি কথাও এক্সপাঞ্জ করা হয়নি।’

মাওলানা সাঈদী কথা বলা শেষ করলে ট্রাইব্যুনাল সদস্য বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, ‘সাঈদী সাহেব তারা (রাষ্ট্রপরে আইনজীবী) যদি আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে আপনি মুক্তি পাবেন।’

তখন মাওলানা সাঈদী বলেন,  ‘আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ’ । মাওলানা সাঈদীর বক্তব্যের সময় আদালতে  পিন পতন নিরবতা বিরাজ করে।  ট্রাইব্যুনাল ৩০ অক্টোবর থেকে অভিযোগের ওপর শুনানি শুরুর দিন ধার্য্য করেন।



এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.Sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।


মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব3-মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ :

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ :
মেহেদী হাসান
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে বিচার হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর জেলার পাড়েরহাট বন্দর এলাকায়   রাজাকার ও শান্তি কমিটি গঠনে নেতৃত্ব প্রদান, পাড়েরহাট ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়, আওয়ামী লীগ এবং  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনেকে হত্যা, নির্যাতনে  নেতৃত্ব প্রদান এবং এসবে অংশগ্রহণ।  পাকিস্তান আর্মি, রাজাকার এবং  শান্তি কমিটির লোকজন নিয়ে পাড়েরহাট বাজারে  হিন্দু  সম্প্রদায়, আওয়ামী লীগ এবং  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনের  দোকানপাট লুটপাট, বাড়িঘরে  অগ্নিসংযোগ ।  এসব বাড়িঘর  দোকানপাট লুটপাটে নেতৃত্বদান এবং সরাসরি  অংশগ্রহনের অভিযোগ।  ভানুসাহাসহ বিভিন্ন মেয়েদের  ধর্ষন  এবং ধর্ষনের উদ্দেশে গ্রামের  অনেক নারীদের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর  ক্যাম্পে  তুলে দেয়ার অভিযোগ।  হত্যা, গণহত্যা,  মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে নিজে জড়িত থাকাসহ এসবে নেতৃত্ব প্রদান, পরিচালনা  এবং পাকিস্তান আর্মিকে এসব অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার অভিযোগ।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন বা  রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দায়ের করা চার্জশিটে ৩২টি অভিযোগ জমা দেয়া হয় ট্রাইব্যুনালে।  এখান থেকে ২০টি অভিযোগ নিয়ে  তার বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এ ২০টি অভিযোগ হল

১.    ১৯৭১ সালের ৪ মে মাওলানা সাঈদীর  নেতৃত্বের লোকজন পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে পিরোজপুর মাছিমপুর বাস স্ট্যান্ডের পেছনে যায়। সেখানে পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে লোকজন জড়ো করে ২০ জন নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২.    একই তারিখে  মাওলানা সাঈদী ও তার দল পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে মাসিমপুর হিন্দুপাড়ায় যায়। সেখানে হিন্দুদের বাড়িঘর লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়।   এসময় পলায়নপর লোকজনের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে ১৩ জন মারা যায়।
৩.    একই দিন সাঈদী নিজে মাসিমপুর মনীন্দ্রনাথ ও সুরেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়ি লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় আশপাশের আরো অনেক বাড়িতে আগুন ধরানো হয়।
৪.    একই দিন সাঈদী তার রাজাকার বাহিনী  পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে  ধোপাবাড়ি  সামনে এবং এলজিইডি ভবনের পেছনের হিন্দুপাড়া ঘিরে ফেলে। এসময়  তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে দেবেন্দ্রনাথ  মন্ডল, পলিন বিহারী, জগেন্দ্র  মন্ডল, মুকুন্দ বালা মারা যায়।
৫.    পরের দিন  ৫ মে সাঈদী ও তার সহযোগী শান্তি কমিটির মন্নাফ কয়েকজন পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিয়ে পিরোজপুর হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে তারা সাইফ মিজানুর রহমানকে ধরে  বলেশ্বর নদীর তীরে  নিয়ে যায়। সাইফ মিজানুর রহমান ছিলেন  সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের নেতা। একই দিন লেখক হুমায়ুন আহমেদের পিতা পিরোজপুরের সাবডিভিশন পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) ফয়জুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত এসডিও আব্দুর রাজ্জাককে কর্মস্থল থেকে ধরে নিয়ে বলেশ্বর নদীর তীরে গুলি করে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে এ তিন সরকারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৬.    দুই দিন পর ৭ মে সাঈদীর নেতৃত্বে শান্তি কমিটির একটি দল পাড়েরহাট বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়, আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরববাড়ি  দেখিয়ে দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে। এরপর সেসব প্রতিষ্ঠানে নির্বিচানের লুটপাট চালানো হয়। পরে আগুন দেয়া হয়। লুটপাটে  সাঈদী নিজে অংশ নেন। মাখনলাল সাহার দোকান থেকে ২২ সের ¯¦র্ণ লুট করা হয়। মাওলানা সাঈদীর নেতৃত্বে  শান্তি কমিটির লোকজন দোকানপাট লুটে অংশ নেয়।
৭.    পরের দিন ৮ মে  বেলা দেড়টার দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী নিয়ে বাদুরিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম সেলিম খানের বাড়িতে যায়। নুরুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করে এবং পরে তাকে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর তাদের বাড়ি আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
৮.    একই দিন বেলা  তিনটার দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে চিথলিয়া গ্রামে যায় এবং মানিক পশারীর বাড়ি লুট করে । এখানে ৫টি ঘর তারা কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় লুটপাটের পর। মানিক পসারীর বাড়ি থেকে ইব্রাহীম কৃট্টি  এবং মফিজুল নামে দুজনকে  ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সাঈদীর প্ররোচনায় ইব্রাহীমকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং মফিজকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া  হয়।
৯.    ২ জুন সকাল ৯টায়  নলবুনিয়া গ্রামের আব্দুল হালিমের বাড়িতে মূল্যবান জিনিস লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
১০.    একই দিন সকাল ১০টার দিকে উমেদপুর গ্রামে সাঈদীর নেতৃত্বে ২৫টি ঘর আগুন  দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় সাঈদীর নির্দেশে বিশাবালী নামে একজনকে নারকেল গাছের সাথে বেঁধে হত্যা করা হয়।
১১.    একই দিন সাঈদী  পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে টেংরাটিলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িতে যায় ।   তার বড় ভাই মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে নির্যাতন এবং বাড়িতে লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়া  হয়।
১২.     সাঈদীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল পাড়েরহাট বাজারের  ১৪ জন হিন্দুকে  এক দড়িতে বেঁধে গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়া  হয়।
১৩.    যুদ্ধ  শুরুর ২/৩ মাস পর সাঈদীর নেতৃত্বে পাকিস্তানী সেনা দল নলবুনিয়া গ্রামের আজহার আলীর বাড়িতে যায়। আজহার আলীর ছেলে সাহেব আলীকে পিরোজপুর  নিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
১৪.    মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে ৫০ জনের একটি রাজাকার দল হোগলাবুনিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায়  যায়। এখানে মহিলাদের ধর্ষণ করা হয় এবং তাদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়।
১৫.     মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে সাঈদীর নেতত্বে ১৫ /২০ জনের একটি দল হোগলাবুনিয়ার গ্রামের ১০  জন হিন্দুকে  ধরে পাকিস্তান সেনাদের হাতে  তুলে দেয়া হয় এবং তাদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়।
১৬.    সাঈদীর নেতৃত্বে পাড়েরহাট বাজারের গৌরাঙ্গ সাহার তিনবোনকে ধরে পাকিস্তানীদের হাতে তুলে দেয়া হয । তিনবোনকে তিন দিন ক্যাম্পে আটকে রেখে ধর্ষনের পর ছেড়ে দেয়া হয়।
১৭.    সাঈদী ও তার নেতৃত্বের রাজাকাররা পাড়েরহাট বাজারের বিপদ  সাহার  মেয়ে ভানুস সাহাকে  তার বাড়িতে আটকে রেখে নিয়মিত ধর্ষণ করত।
১৮.    ভাগীরথী নামে একটি মেয়ে পাকিস্তান সেনা ক্যাম্পে কাজ করত। সাঈদী পাকিস্তানী সেনাদের খবর দেয় যে, ভাগীরথী  মুক্তিযোদ্ধাদের চর হিসেবে পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পের খবর  মুক্তিযোদ্ধাদের পৌছে দেয়। এরপর পাকিস্তান সেনারা তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
১৯.    সাঈদীর  ১০০ থেকে ১০৫ জন হিন্দুকে জোর করে মুসলমান বানায় এবং তাদের মসজিদে নামাজ পড়তে বাধ্য করে।
২০.     নভেম্বরের শেষের দিকে সাঈদী খবর পান  মানুষজন ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে ১০ /১২ জনের একটি দল ইন্দুরকানী গ্রামে  তালুকদার বাড়িতে আক্রমন চালায়। ৮৫ জনকে আটক করা হয়। ১০/১২ জন বাদ দিয়ে বাকীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব2-যেভাবে গ্রেফতার

যেভাবে গ্রেফতার 
মেহেদী হাসান
তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব রেজাউল হক চাঁদপুরী ২০১০ সালের ২১ মার্চ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের  পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে। মামলার আসামীরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, ঢাকা মহনগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খান এবং ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি আ স ম ইয়াহিয়া।

মামলায় বলা হয়, ১৭ মার্চ (২০১০)  সিরাতুন্নবী (সা.) উপলে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায় রফিকুল ইসলাম খান মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামীকে তুলনা করেন, যা ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে। ওই সভায় নিজামীসহ অন্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। মামলার পর মহানগর হাকিম তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। ২৯ জুন  তাদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ধার্য্য করা হয়। আ স ম ইয়াহিয়া ছাড়া জামায়াতের চার নেতা হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর মাওলানা সাঈদীকে ওইদিন অর্থাৎ ২০১০ সালের ২৯ জুন বিকালে শহীদবাগের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে প্রেসকাবের সামনে থেকে এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে সাভার থেকে বাড়ি যাবার পথে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের কর্তব্য কাজে বাঁধাদান, গাড়ি ভাংচুর, উত্তরা ষড়যন্ত্রের সাথে জাড়িত থাকাসহ বিভিন্ন মামলায় মাওলানা সাঈদীসহ অন্য দুই নেতার প্রত্যেককে ১৬ দিন করে রিমান্ড প্রদান করেন আদালত।
এভাবে বন্দী হবার পর পরবর্তীতে মাওলানা সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের অধীনে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আটক দেখানো হয়।

এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.Sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব১-মামলা শুরু যেভাবে


মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব১-মামলা শুরু যেভাবে

মেহেদী হাসান
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই চিকিৎসার জন্য  সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্টে তাকে আটকে দেয়া হল। তিনি আদালতের স্মরনাপন্ন হলেন। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে  বিদেশ গমনে বাঁধাদানকে অবৈধ উল্লেখ করে  তার পক্ষে রায় দেন। রায়ে তাকে বিদেশ গমন এবং বিদেশ থেকে ফেরত আসা বিষয়ে  কোন প্রকাশ  বাঁধা না দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্টের এ আদেশের আড়াই ঘন্টার মাথায়  সুপ্রীম কোর্টের চেম্বার বেঞ্চ স্থগিত করেন সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে।

দুপুর বারটার দিকে হাইকোর্ট তাকে বিদেশ যাবার অনুমতি দিয়ে রায় দেয়ার পর আড়াইটার দিকে চেম্বার বেঞ্চ  কর্তৃক তা স্থগিত করে দেয়া হল।  বিদেশ গমনে বাঁধা বিষয়ক শুনানীতে অংশ নিয়ে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে কোন  অভিযোগ নেই এবং কোন মামলাও নেই। এর জবাবে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন মামলা নেই কিন্তু মামলা হতে কতক্ষন।

এটর্নি জেনারেল এর মন্তব্যের কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেদিনই অর্থাৎ  ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হল  ১৯৭১ সালের ঘটনা বিষয়ে। মানিক পশারী নামে এক লোক   পিরোজপুর মুখ্য বিচারকি হাকিমের  আদালতে  মাওলানা  দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ ৫ জনের  বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয় ১৯৭১ সালের ৮ মে মাওলানা  সাঈদী  পাকিস্তান আর্মি নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। বাড়ি লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বাড়ির কাজের লোক ইব্রাহীম কুট্টিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্দেশে পাকিস্তান আর্মি তাকে  পাড়েরহাট বাজারে হত্যা করে।

মানিক পশারীর এ মামলা দায়েরের  কয়েক দিন পর ৯ সেপ্টেম্বর মাহবুবুল আলম হাওলাদার  নামে আরেক ব্যক্তি মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে  পিরোজপুর নালিশী আদালতে একটি নালিশী দরখান্ত দাখিল করেন। এটিও ১৯৭১ সালের ঘটনা বিষয়ে।

২০১০ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয়  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনাল  গঠনের পর মাহবুবুল আলম হাওলাদার  ২০১০ সালের ২০ জুলাই ঢাকায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। দরখাস্তে তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেন।  তার এ দরখাস্তের সূত্র ধরে মাওলানা  হোসাইন সাঈদীর  বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের অধীনে আসে । এরপর ২০১০ সালের ২১ জুলাই থেকে  তদন্ত সংস্থা মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে শুরু করে তদন্ত কাজ। ২০১১ সালের  ৩ অক্টোবর চার্জ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়  বিচার কার্যক্রম।


এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan http://sayedeetrial.blogspot.com উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।