মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব১-মামলা শুরু যেভাবে


মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব১-মামলা শুরু যেভাবে

মেহেদী হাসান
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই চিকিৎসার জন্য  সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্টে তাকে আটকে দেয়া হল। তিনি আদালতের স্মরনাপন্ন হলেন। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে  বিদেশ গমনে বাঁধাদানকে অবৈধ উল্লেখ করে  তার পক্ষে রায় দেন। রায়ে তাকে বিদেশ গমন এবং বিদেশ থেকে ফেরত আসা বিষয়ে  কোন প্রকাশ  বাঁধা না দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্টের এ আদেশের আড়াই ঘন্টার মাথায়  সুপ্রীম কোর্টের চেম্বার বেঞ্চ স্থগিত করেন সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে।

দুপুর বারটার দিকে হাইকোর্ট তাকে বিদেশ যাবার অনুমতি দিয়ে রায় দেয়ার পর আড়াইটার দিকে চেম্বার বেঞ্চ  কর্তৃক তা স্থগিত করে দেয়া হল।  বিদেশ গমনে বাঁধা বিষয়ক শুনানীতে অংশ নিয়ে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে কোন  অভিযোগ নেই এবং কোন মামলাও নেই। এর জবাবে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন মামলা নেই কিন্তু মামলা হতে কতক্ষন।

এটর্নি জেনারেল এর মন্তব্যের কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেদিনই অর্থাৎ  ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুরে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হল  ১৯৭১ সালের ঘটনা বিষয়ে। মানিক পশারী নামে এক লোক   পিরোজপুর মুখ্য বিচারকি হাকিমের  আদালতে  মাওলানা  দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ ৫ জনের  বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয় ১৯৭১ সালের ৮ মে মাওলানা  সাঈদী  পাকিস্তান আর্মি নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। বাড়ি লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বাড়ির কাজের লোক ইব্রাহীম কুট্টিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্দেশে পাকিস্তান আর্মি তাকে  পাড়েরহাট বাজারে হত্যা করে।

মানিক পশারীর এ মামলা দায়েরের  কয়েক দিন পর ৯ সেপ্টেম্বর মাহবুবুল আলম হাওলাদার  নামে আরেক ব্যক্তি মাওলানা  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে  পিরোজপুর নালিশী আদালতে একটি নালিশী দরখান্ত দাখিল করেন। এটিও ১৯৭১ সালের ঘটনা বিষয়ে।

২০১০ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয়  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনাল  গঠনের পর মাহবুবুল আলম হাওলাদার  ২০১০ সালের ২০ জুলাই ঢাকায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। দরখাস্তে তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেন।  তার এ দরখাস্তের সূত্র ধরে মাওলানা  হোসাইন সাঈদীর  বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের অধীনে আসে । এরপর ২০১০ সালের ২১ জুলাই থেকে  তদন্ত সংস্থা মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে শুরু করে তদন্ত কাজ। ২০১১ সালের  ৩ অক্টোবর চার্জ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়  বিচার কার্যক্রম।


এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan http://sayedeetrial.blogspot.com উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন