বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৩

মাওলানা সাঈদীর বিচার// পর্ব4-শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার

মেহেদী হাসান,৩/১০/২০১১
আজ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  চার্জ গঠন করা হল। চার্জ গঠনের আদেশ উপলক্ষে সকাল দশটার দিকে মাওলানা সাঈদীকে আদালত কক্ষের কাঠগড়ায়  হাজির করা হয়। এরপরই চার্জ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
যেসব অভিযোগে চার্জ গঠন করা হল তাকে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার হিসেবে আখ্যায়িত করলেন মাওলানা সাঈদী।
মাওলানা সাঈদী নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে দৃঢকণ্ঠে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বললেন, “আমার   বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা।  একাত্তরে আমি কোন অপরাধ করিনি । কোন রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার তো দূরের কথা কোন পদেও আমি ছিলাম না। মাবতাবিরোধী নয়, মানবতার পে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে বক্তব্য দিয়েছি। আমাকে অন্য কেউ রাজাকার বলেনা। কেবল ভারতের রাজাকাররাই আমাকে রাজাকার বলে।

আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সহস্রাধিক রচনা লেখা হয়েছে। এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন মিথ্যা। এমন মিথ্যা প্রতিবেদনের জন্য আল্লাহর আরশ কাঁপবে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে যারা এমন প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাদের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে। আমি সেই লানত দেখার অপোয় আছি।’
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে অভিযোগে চার্জ গঠনের  আদেশ ঘোষণার পর মাওলানা সাঈদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি অর্ডার ইংরেজিতে দিয়েছি এখন আপনার সুবিধার্থে বাংলায় বলব।  আপনি  যদি দোষী বা নির্দোষ হন তা হলে বলবেন।
জবাবে মাওলানা  সাঈদী বলেন, ‘বাংলায় দেওয়ার দরকার নেই আপনার ইংরেজি অর্ডার আমি বুঝতে পেরেছি।’ এরপর  তিনি তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানান। 
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তখন বলেন, ‘এ ধরনের কোন সুযোগ নেই। মাওলানা সাঈদী তখন  বলেন, ‘সুযোগ না থাকলে আমি দু-তিন কথায় এর জবাব দেবো। এরপর  মাওলানা সাঈদী প্রথমে সবাইকে সালাম দিয়ে তার কথা বলা  শুরু করেন।

মাওলানা সাঈদী ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি তখন হজ করে এসেছিলেন। হজের নুরানি আভা চেহারায় তখনো নষ্ট হয়নি। আমাকে এখানে আনার পর একজন প্রসিকিউটর আমার নাম বিকৃত করে উচ্চারন করেছিলেন। আমি আশা করেছিলাম, আপনি জিজ্ঞেস করবেন, এইটা কোথায় পেয়েছেন? উনার সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট বা অন্য কোন দলিলপত্র থেকে পেয়েছেন কি-না?

কিন্তু আপনি তা করলেন না। বরং অর্ডারে ওই নামে আমাকে উল্লেখ করলেন।
আপনি একদিন বলেছিলেন, আল্লাহ আপনাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনি সেই দায়িত্ব পালন করতে চান। আসলেই বিচারকের দায়িত্ব অনেক বড়। হাশরের দিনে সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের নীচে ছায়া পাবেন।  প্রথম শ্রেণি হচ্ছেন, ন্যায় বিচারক।  তাই আমি আশা করি আপনি ন্যায় বিচার করবেন।
বিচারকের দায়বদ্ধতা আল্লাহ ও বিবেকের কাছে। তৃতীয় কোন স্থানে দায়বদ্ধতা থাকলে ন্যায় বিচার করা যায় না। বরং যেটা করা হয়, সেটা জুলুম ।  আর জুলুমের পরিণাম জাহান্নাম।  আমার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের কোন অভিযোগ আসেনি। ১৯৮০ সালে জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য হওয়ার পর এটা আসতে শুরু করে। যখনই এ ধরণের অভিযোগ এসেছে, আমি প্রতিবাদ করেছি, সংসদে বলেছি, মামলা দায়ের করেছি। যার অনেকগুলো এখনো বিচারাধীন রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ করা তো দূরে থাক, বিগত অর্ধ শতাব্দী ধরে দেশে বিদেশে মানবতার  রক্ষায় কাজ করেছি।  আমার বিরুদ্ধে চার সহস্রাধিক পৃষ্ঠার একটি রচনা তৈরি করা হয়েছে। যারা এটা রচনা করেছেন, তাদের মনে আল্লাহ’র ভয় ছিলো না। তাই তারা এটা করতে পেরেছেন। রাজাকার কমান্ডার হওয়াতো দূরে থাক, তাদের সঙ্গে আমার কোনই সম্পর্ক ছিলো না। আমি শাান্তি বাহিনীর সদস্য ছিলাম না, রাজাকার ছিলাম না। পাক বাহিনীর সঙ্গে আমি এক মিনিটের জন্যও বৈঠক করিনি।
আমি চাই, আপনি আমাকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিবেন। দিতে পারবেন। আমি একজন নিরীহ মানুষ। এই অবিচার করা হলে, আল্লাহর আরশ কাঁপবে। আল্লাহর লানতে পড়বে। সারা পৃথিবী  তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে।

আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সহস্রাধিক রচনা লেখা হয়েছে। ‘এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন মিথ্যা। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে যারা এমন প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাদের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে। আমি সেই লানত দেখার অপোয় আছি।’
আমি কখনোই শান্তি কমিটিতে বা রাজাকার, আলবদর ছিলাম না। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে এক দিনের বা এক মিনিটের জন্যও আমার সাথে কোন সম্পর্ক ছিলনা। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্ভাগ্যজ্জনক। সুরা হুজরাতের ১১ নং আয়াতে  নামের বিষয়ে বলা আছে- ‘কোন মানুষকে বিকৃত করে ডেকোনা।’

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করে মাওলানা সাঈদী বলেন, ‘আল্লাহর আরশের নিচে সাত শ্রেণির মানুষ ছায়া পাবে। তার মধ্যে ন্যায় বিচারকরা প্রথমেই রয়েছেন। আপনাদের কাছ থেকে সেই ন্যায় বিচার আশা করি। তাই আপনি ন্যায় বিচার করবেন। বিচারকদের নিরপেক্ষতা, বিবেক, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা না থাকলে সুবিচার নিশ্চিত হয়না।

‘৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক যুগের বেশি সময় আমাকে নিয়ে কোন কথা হয়নি।  ১৯৮০ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়ার পর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় আমাকে গ্রেফতারের পর। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। ১৯৯৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে সরকার গঠন হয়, সেই সংসদে আমি ২০ মিনিটের বক্তব্য দিয়ে বলেছিলাম, আমি রাজাকার নই। সেই ২০ মিনিটের বক্তব্যের একটি কথাও এক্সপাঞ্জ করা হয়নি।’

মাওলানা সাঈদী কথা বলা শেষ করলে ট্রাইব্যুনাল সদস্য বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, ‘সাঈদী সাহেব তারা (রাষ্ট্রপরে আইনজীবী) যদি আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে আপনি মুক্তি পাবেন।’

তখন মাওলানা সাঈদী বলেন,  ‘আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ’ । মাওলানা সাঈদীর বক্তব্যের সময় আদালতে  পিন পতন নিরবতা বিরাজ করে।  ট্রাইব্যুনাল ৩০ অক্টোবর থেকে অভিযোগের ওপর শুনানি শুরুর দিন ধার্য্য করেন।



এই সাইটের যেকোন লেখা, তথ্য উপাত্তা যেকেউ ব্যবহার, পুনমুদ্রন, পুন প্রচার, প্রকাশ করা যাবে; তবে শর্ত হল সূত্র হিসেবে Mehedy Hasan https//www.Sayedeetrial.blogspot.com  উল্লেখ/লিঙ্ক  করতে হবে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন